বিজ্ঞানেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী
‘গবেষণায় জোর দেওয়ার কারণে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি, বিজ্ঞানেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’ উল্লেখ করে বিজ্ঞান শিক্ষাকে সহজ ও বোধগম্য করে তুলতে ‘খুব বেশি’ রক্ষণশীল ‘না হয়ে’ পরিভাষার পরিবর্তে প্রচলিত শব্দ এবং পরিচিত ‘টার্মস’ ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভাষার ব্যবহার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “যে শব্দগুলো বহুল প্রচলিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত সেগুলো যে ভাষাতেই আসুক, আমাদের সেটাই গ্রহণ করতে হবে।
“সেখানে পরিভাষা ব্যবহার করতে গিয়ে পরে কোনো কিছুই বুঝব না, বলতেও পারব না, সেটা যেন না হয়। কারণ সব জায়গায় প্রতিশব্দ করতে হবে বা পরিভাষা বলতে হবে আমি সেটা বিশ্বাস করি না।”
তিনি বলেন, বিজ্ঞান গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান যেন মানুষের কাজে ব্যবহার হয়, এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক শব্দগুলো দুর্বোধ্য না করে ফেলা ভালো। বহুল পরিচিত ও প্রচলিত শব্দগুলো আমাদের ভাষায় ব্যবহার করতে হবে।
সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২২ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার বাংলায় অনুবাদ কোরে তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিদেশি শব্দের পরিভাষা বা প্রতিশব্দ সহজবোধ্য করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় গবেষণা ছাড়া অগ্রগতি করা যাবে না, বিষয়টি অনুধাবন করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ দেয় বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের চর্চা বা গবেষণা ছাড়া এগোনো যায় না। ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, আমি লক্ষ করি—গবেষণার জন্য বাজেটে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ ছিল না। আলাদাভাবে যে ফান্ড দরকার, সেটি কিন্তু ছিল না। ওই মেয়াদে তৎকালীন সরকার ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমাদের উন্নত দেশ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেটা করতে হলে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞান চর্চা, বিজ্ঞান গবেষণা, সব বিষয়ে গবেষণা একান্তভাবে দরকার।”
এসব বিষয়ে ‘দৃষ্টি রেখে’ সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে জানিয়ে বিজ্ঞান শিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান মানুষের কল্যাণে যেন সহজভাবে ব্যবহার হয় তার উপর জোর দেন তিনি।
কম্পিউটারে বাংলা ‘কনটেন্ট’ তৈরি করা এবং বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য বাংলা কি বোর্ড ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিন্তু সেটাকে আরও সহজ করে দেওয়া আর আমাদের যুক্তাক্ষরগুলো এত খটোমটো।
“কারণ আমি নিজেও এক সময় বাংলা টাইপ করা শিখেছিলাম। যেমন শেখাও যায় আবার তাড়াতাড়ি ভুলেও যেতে হয় প্র্যাকটিস না থাকলে। এটাই হচ্ছে বড় কথা। কাজেই এটাকে আরো সহজভাবে আমাদের তৈরি করা দরকার।”
এ বিষয়ে কাজ চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাকে আরও সহজভাবে তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যেই কিন্তু কাজ চলছে। তবে এটা নিয়ে আরও গবেষণা করা এবং মানুষ যেন সহজে ব্যবহার করতে পারেন সেটার ব্যবস্থা নেওয়া।”
মোবাইল ফোনে বাংলা শব্দ ব্যবহার এবং বাংলা বার্তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের একবারে সেই গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিন্তু এটা ব্যবহার হচ্ছে এখন। মানুষ সেভাবে ব্যবহার করছে। কাজেই এটা একটা শুভ লক্ষণ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন নিয়ে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল।